২০১৮ সালে অমর একুশে বইমেলায় কথাসাহিত্যিক মোস্তফা সোহেলের কবিতাগ্রন্থ সাদা মেঘে ওড়াই মৌনতা প্রকাশিত হয়। ওই বছর কবি নির্মলেন্দু গুণ বইটির ভূমিকায় লেখেন-একুশের মাসব্যাপী বই মেলা এখন সমাপ্তির পথে। কিন্তু এখনও আমাদের লেখক-কবিরা লিখে চলেছেন। প্রকাশকরা বই প্রকাশ করে চলেছেন। পাঠক মেলা থেকে বই কিনে চলেছেন। বিশ্বের গ্রন্থজগতের জন্য এর চেয়ে আনন্দ সংবাদ আর কী হতে পারে?
কবি মোস্তফা সোহেল আসছেন তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ নিয়ে। তার কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছেন-সাদা মেঘে ওড়াই মৌনতা।
বাহ! চমৎকার নামটি। কবিতাগুলোও সুখপাঠ্য। আমি কবিকে স্বাগত জানাই। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
কবি-কথাসাহিত্যিক মোস্তফা সোহেল সম্পর্কে এক ছত্র
শুধু গদ্য নয়। কবিতায়ও সিদ্ধহস্ত মোস্তফা সোহেল। লেখকের জন্ম ১২ জানুয়ারি যশোর শহরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর। ডেনমার্কের ওডেন্স-এর নরডিক এগ্রিকালচার একাডেমি থেকে ফেলোশিপ পেয়েছেন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে। ভ্রমণ করেছেন পথিবীর বহু দেশ। সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন দেশের মানবাধিকারের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থায় নির্বাহী পরিচালক হিসেবে।
দৈনিক প্রথম আলোর বন্ধুসভা থেকে লেখালেখি শুরু। তবে তার আগেও ভোরের কাগজের পাঠক ফোরাম-মেলা, দৈনিক দেশ, আজকের কাগজ, যায় যায় দিন-এ নিয়মিত নানা বিষয়ে লিখেছেন। ১৯৯৯ সালে ‘হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেবো’ ও ২০১০ সালে ‘নিঃসঙ্গ টারমিনাল’ নামে তার দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১১ সালে পলল প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় তার দুটো উপন্যাস ‘তুমি আমায় প্রথম ছুঁয়েছিলে’ ও ‘ভালোবাসার এক রূপালি রাত’, ২০১২ সালে জনান্তিক থেকে প্রকাশিত হয় ‘আনন্দবাড়ি’ ও ‘বুনো জ্যোৎস্লায়’ নামে আরো দুটো উপন্যাস। এরপর বিজয় প্রকাশ থেকে ২০১৩ সালে ‘মুখোশ’, ২০১৪ সালে ‘নেতা’ ও ২০১৫ সালে সর্বাধিক বিক্রিত উপন্যাস ‘ভালোবাসা ও একটি জলফড়িং’ প্রকাশিত হয়। ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তে প্রকাশিত হয় উপন্যাস ‘বধূ কোন আলো’ ও গল্পগ্রন্থ ‘প্রেম পাখি ও জোনাকির গল্প।’ ২০১২ ও ২০১৩ সালে উপন্যাসের জন্য তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার লাভ করেন।
‘সাদা মেঘে ওড়াই মৌনতা’ কাব্যগ্রন্থে পাঠক ভিন্ন স্বাদ পাবেন। এটি বাংলানামা থেকে প্রকাশিত তার কবিতার প্রথম বই। এ ছাড়াও বাংলানামা থেকে প্রকাশিত লেখকের অন্যান্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে আমি কান পেতে রই, মনপাহাড়, শহরে রটে গেছে আমাদের প্রেমের কথা, একদিন ঝুম বৃষ্টিতে, ভালোবাসা অথবা বিভ্রমের গল্প, সুন্দর তুমি এসেছিলে, চোখের আলোয় দেখেছিলাম।
২০২০ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন প্রতিভাবান-জনপ্রিয় এ কথাসাহিত্যিক। তার অমর কীর্তি বাংলা সাহিত্যিপ্রেমীদের অফুরান আনন্দ জুগিয়ে যাবে। শারীরিক প্রস্থান হলেও তিনি রয়েছেন তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আমাদের মাঝে সর্বদা।


